নিজস্ব প্রতিবেদক:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় কবরস্থানের জায়গা না থাকায় নিজ বসতঘরের ভেতরে আব্দুল করিম মিয়া (৭০) নামের এক বৃদ্ধকে দাফন করার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি কিনে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় ১০ শতাংশ জমিতে ওয়াকফকৃত নতুন কবরস্থান তৈরি করে ধর্মীয় মর্যাদায় মরহুমের মরদেহ পুনঃদাফন করা হয়েছে।
নিহত আব্দুল করিম মিয়া উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে আব্দুল করিম মিয়া মারা যান। কিন্তু এলাকায় কোনো সার্বজনীন কবরস্থান বা দাফনের জন্য আলাদা কোনো জায়গা না থাকায় চরম বিপাকে পড়ে পরিবার। উপায় না পেয়ে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে নিজেদের বসতঘরের টিনের বেড়া খুলে ঘরের ভেতরেই তাঁর মরদেহ দাফন করেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনাটি জানাজানি হলে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ঘরের ভেতরে মরদেহ দাফনের তথ্য পাওয়ার পরই তিনি শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনীষা আহমেদকে বিষয়টি সরেজমিনে দেখার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা পেয়ে ইউএনও দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং নিহতের স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয় এবং স্থানীয় এক দাতা আরও ৫ শতাংশ জমি দান করেন। সব মিলিয়ে মোট ১০ শতাংশ জমিতে নতুন গোরস্থান তৈরির ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতেই সেই ওয়াকফকৃত নতুন কবরস্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় আব্দুল করিম মিয়ার মরদেহ পুনরায় দাফন করা হয়।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন আরও জানান, নিহতের পরিবারটি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই তাদের মানবিক দিক বিবেচনায় নিহত করিম মিয়ার ছেলেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ইজিবাইক প্রদান করা হবে।
