আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকারি অনুমোদন না থাকায় মোট ২৫২টি মাদ্রাসা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু এই রাজ্যেই নয়, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৈধ নথিপত্র ও সরকারি স্বীকৃতি ছাড়া পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাদ্রাসাগুলোর পরিচালনা পদ্ধতি ও আইনি বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই জটিল পরিস্থিতিতে উত্তর প্রদেশের দেওবন্দ শহরে একটি বিশাল ইসলামি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এই মহাসম্মেলনে সারা দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার মাদ্রাসা প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। রাবিতা-ই-মাদারিস ইসলামিয়া সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই বৈঠকে মূলত ইসলামি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই মাদ্রাসাগুলোর ওপর নজরদারি জোরালো করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের নির্দেশে পরিচালিত এক ব্যাপক জরিপের পর এই আড়াইশতাধিক মাদ্রাসা বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। এছাড়া গুরুতর অনিয়ম ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি থাকায় আরও অন্তত একশটি মাদ্রাসাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপে কম শিক্ষার্থী ও অবকাঠামোগত সংকট থাকা আরও আড়াইশটি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি মাদ্রাসা বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। এর পাশাপাশি প্রায় আড়াই হাজার অনুমোদনহীন মাদ্রাসাও প্রশাসনিক নজরদারির মুখে পড়তে পারে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী জেলা মালদহসহ বেশ কিছু এলাকায় এই কড়াকড়ির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এবং সন্তোষজনক জবাব না মিললে আরও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
