আহসান হাবিব রুবেল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ২১ প্লাটুন সদস্য। নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালাচ্ছেন তাঁরা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার আখানগর বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন বিজিবি সদস্যরা। এ সময় নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন মোড় ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে টহলও জোরদার করা হয়।
নির্বাচনী এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি দায়িত্বরত সদস্যরা বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন এবং সন্দেহজনক স্থানগুলোতে কে-৯ ডগ ইউনিটের সহায়তায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। তাঁরা নির্বাচনী এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রশান্ত কুমার এবং ঠাকুরগাঁও-৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইব্রাহিম আলীর নেতৃত্বে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ড্রোন ক্যামেরা ও বডি-ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভোটাররা যাতে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এ নিরাপত্তাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন বিজিবি সদস্যরা।
নির্বাচনকে ঘিরে কেউ বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনে আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
