জাতীয় ডেস্ক: কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি একটি আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পাঁচজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তিতে থাকা আরও সাতজন চিকিৎসককে অবিলম্বে তাঁদের মূল কর্মস্থলে ফেরত পাঠানোর জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়। হাসপাতালটির সার্বিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
পরিদর্শনের নির্ধারিত সময় সকালে হাসপাতালটিতে উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী চিকিৎসক ও স্টাফদের উপস্থিতি, রোগীদের সেবার মান এবং সার্বিক পরিবেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তা শোনেন। হাসপাতালের দুরবস্থায় থাকা দুই অসহায় রোগীকে তিনি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানে মোট ৫১ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও পরিদর্শনের সময় ১২ জন অনুপস্থিত ছিলেন। যাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ নানা অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে আসছিলেন না।
পরিদর্শন শেষে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার একটি বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় হাসপাতালটিতে প্রায় দশটি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি নারীদের জন্য বিশ শয্যার বিশেষ ওয়ার্ড এবং নবজাতকদের সুচিকিৎসার জন্য বিশ শয্যার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং একটি ডেডিকেটেড ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এই প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং শিগগিরই নতুন চিকিৎসকদের এই হাসপাতালে পদায়ন করা হবে।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের চেয়ে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার বেহাল দশা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, মানসম্মত চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের ভেতরের ও বাইরের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও সমানভাবে জরুরি। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, অতীতে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হলেও বর্তমান সরকার এটিকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার জন্য কাজ করছে। চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, আধুনিক সুবিধার সম্প্রসারণ এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই হাসপাতালের সেবাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
