ঢাকাMonday , ২ নভেম্বর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অভিযোগ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-বিচার
  5. আটক
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. কৃষি-সংবাদ
  9. খেলা-ধুলা
  10. জাতীয়
  11. জীবনযাত্রা
  12. তথ্য ও প্রযুক্তি
  13. দুর্ঘটনা
  14. দুর্নীতি
  15. ধর্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লোকসংগীতের গ্রাম সিংহীমারী

admin
নভেম্বর ২, ২০২৬ ১২:১৬ am
Link Copied!

ফিচার ডেস্ক: কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের ছিনাই বাজার থেকে একটু ভেতরে প্রবেশ করলেই সবুজে ঘেরা বৈদ্যেরবাজার সিংহীমারী গ্রামে কান পাতলে ভেসে আসে শিশুদের কণ্ঠে লালনগীতির সুর। স্থানীয় সংগীতজ্ঞ নারায়ণ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে নিয়মিত বসে এই লোকসংগীতের আসর, যা স্থানীয়ভাবে সেবালয় গুরুগৃহ হিসেবে পরিচিত। এখানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকবাদ্যযন্ত্রের তালে তালে কচিকাঁচাদের গান শেখানোর এক অনন্য কর্মযজ্ঞ চলছে। হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে দীর্ঘ এক দশক ধরে এই উদ্যোগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সেবালয় গুরুগৃহ ছাড়াও মায়ের তরী নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে বর্তমানে মোট নয়টি গুরুগৃহ পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে প্রতি ছুটির দিনে শিশু-কিশোরদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দোতারা, একতারা, বাঁশিসহ বিভিন্ন লোকবাদ্যযন্ত্র ও লোকসংগীতের তালিম দেওয়া হয়। নরওয়ের লোকগবেষক উয়েরা সেথেরের অনুপ্রেরণায় এবং স্থানীয় সংস্কৃতিসেবীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সংগঠনটি গড়ে উঠেছে। মূলত গ্রামীণ সংস্কৃতির গভীর জীবনদর্শন ও মানবিক শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এই গুরুগৃহগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্বেচ্ছাশ্রম ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অর্থসংকট ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব এর বড় চ্যালেঞ্জ। বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ, মেরামত এবং প্রশিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় আয়োজকদের। তা সত্ত্বেও গুরুদের আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রবল আগ্রহের কারণে এই লোকসংগীতের চর্চা থেমে থাকেনি। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছেন।

মায়ের তরী সংগঠনের পক্ষ থেকে লোকসংস্কৃতি রক্ষায় বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রান্তিক ও অবহেলিত প্রবীণ শিল্পীদের জন্য একটি আনন্দ আশ্রম প্রতিষ্ঠা, উত্তরাঞ্চলের লোকসংগীত ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ লোকসংগীত ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে। সংগঠকদের মতে, লোকসংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।