মাজহারুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ:
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সাবেক এমপির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনাদানা লুটপাট করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া ময়মনসিংহের কোতোয়ালী থানার বিতর্কিত যুবক মোঃ রাসেল মিয়া এবার তথ্য সংগ্রহকারী সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে উল্টো হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করেছেন। নিজের অবৈধ সম্পদের তথ্য ধামাচাপা দিতে এবং সত্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করতেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এই আইনি হয়রানির পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আদালতের নথিসূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী রাসেলের পূর্ণাঙ্গ নাম মোঃ রাসেল মিয়া (২৯), পিতা: আব্দুল বারেক, মাতা: জুবেদা খাতুন। তার স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- চর বড়বিলা, ডাকঘর- চর খরিচা বাজার, থানা- কোতোয়ালী, জেলা- ময়মনসিংহ।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাসেলের বাবা আব্দুল বারেক এলাকায় একজন সাধারণ ভ্যান চালক ছিলেন এবং জীবন জীবিকার তাগিদে পুরনো কাপড় বিক্রি করতেন। অভাবের সংসারে বড় হওয়া রাসেল পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সাবেক এমপি সেলিম ওসমানের বাসভবনে গৃহকর্মী বা কাজের লোক হিসেবে যোগ দেন এবং বাজার-সদাইয়ের কাজ করতেন। সেখান থেকে ওসমানের পরিবারের বিশ্বস্ততা অর্জন করে তিনি তাদের গাড়িচালক (ড্রাইভার) হন। দীর্ঘদিনের কাজের সুবাদে ঘরের ভেতরে যাতায়াতের সুযোগ পেয়ে তিনি বাসার ভেতরের সব গোপন তথ্য ও ধন-সম্পদের হদিস জেনে নেন।
বিগত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রাসেল তার আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় সেলিম ওসমানের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনাদানা লুটপাট করে চম্পট দেন। পরবর্তীতে সেই চুরির টাকা দিয়ে নিজ এলাকায় এসে রাতারাতি বিলাসী জীবনযাপন ও অঢেল সম্পদের মালিক বনে যান। অতি সম্প্রতি রাসেলের স্ত্রীর সাথে পারিবারিক বিচ্ছেদের জেরে তার এই চুরির চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার নেপথ্যের মূল কাহিনী ফাঁস হয়। একই সাথে এলাকার সাধারণ মানুষও রাসেলের এই আকস্মিক কোটিপতি হওয়ার বিষয়ে সঠিক সাক্ষ্য প্রদান করছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চুরির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও অনুসন্ধান করতে গেলে রাসেল চরম ক্ষিপ্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি দেন। তিনি প্রকাশ্যে দম্ভোক্তি করে বলেন, “মারতে খরচ হবে না ২টা ৪টা বুলেট, কোর্ট (আদালত) আমি টাকা দিয়ে কিনে নিতে পারি।” গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ঘটা ওই হুমকির ঘটনার পর এবার নিজের অপরাধ আড়াল করতে এবং সাংবাদিককে চাপে রাখতে উল্টো মামলা ঠুকে দিয়েছেন এই অভিযুক্ত।
এদিকে একজন পেশাদার সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি বিতর্কিত রাসেল মিয়ার অবৈধ সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনসমূহ। একই সাথে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।
