ঢাকাSaturday , ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  1. অপরাধ
  2. অভিযোগ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন-বিচার
  5. আটক
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. কৃষি-সংবাদ
  9. খেলা-ধুলা
  10. জাতীয়
  11. জীবনযাত্রা
  12. তথ্য ও প্রযুক্তি
  13. দুর্ঘটনা
  14. দুর্নীতি
  15. ধর্ম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে রুহিয়া মাটিতে বিদেশি ফল আনারকলি চাষে সফল উদ্যোক্তা রিমুন

admin
অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১০:৪৫ am
Link Copied!

আহসান হাবিব রুবেল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
গাছের সবুজ লতায় ঝুলছে সারি সারি বিদেশি ফল আনারকলি। দেখতে আকর্ষণীয়, স্বাদে টক-মিষ্টি এই ফলের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উপজেলার মণ্ডলাদাম গ্রামের সেনাসদস্য ও তরুণ উদ্যোক্তা রিমুন। বাড়ির পরিত্যক্ত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা তাঁর বাগানে এখন রয়েছে প্রায় ৫০টি গাছ। ভালো ফলন পাওয়ায় আগামী বছর বাণিজ্যিকভাবে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুট বাংলাদেশে অনেকের কাছে আনারকলি বা ট্যাং ফল নামে পরিচিত। দেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের চাষ দেখা গেলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় সমতল ভূমিতে এর চাষ স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।রিমুন জানান, ২০২৫ সালে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়ে প্রথমবারের মতো আনারকলি ফল দেখেন ও খেয়ে দেখেন। ফলটির স্বাদ ভালো লাগায় এর চাষ করার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ২০২৬ সালে কক্সবাজার থেকে তিনটি জাতের পাঁচটি চারা সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করেন। সেই পাঁচটি চারা থেকে বর্তমানে তাঁর বাগানে প্রায় ৫০টি গাছ হয়েছে।গাছে ভালো ফলন এসেছে এবং ফল খেতেও খুব সুস্বাদু।” প্রথমে বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় কয়েকটি গাছ লাগিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করেন। সেখানে ভালো ফলন পাওয়ার পর বাড়ির পাশে রাস্তা-সংলগ্ন জমিতে আরও গাছ রোপণ করেন। তাঁর আশা, প্রতিটি গাছে প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার পর্যন্ত ফল ধরতে পারে।

তিনি বলেন, “ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সাধারণত এ ফল খুব একটা পাওয়া যায় না। অথচ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম এলাকায় এর চাহিদা রয়েছে। প্রতি পিস আনারকলি ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছর ১০ থেকে ২০ শতক জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারকলি চাষের পরিকল্পনা করছি। সে লক্ষ্যে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে।”রুহিয়ার মাটিতে নতুন এই বিদেশি ফলের চাষ দেখতে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রথমবারের মতো গাছে ফলসহ আনারকলি দেখছেন। কেউ কেউ নিজেদের বাড়িতেও এ ফলের চারা লাগানোর পরিকল্পনা করছেন।রামনাথ হাট এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট সাইমুম পারভেজ বলেন, “আমি প্রথমবারের মতো এই ফল দেখলাম এবং খেয়েও দেখেছি। খেতে বেশ ভালো লেগেছে। আমাদের এলাকায় সাধারণত এ ফল পাওয়া যায় না। রিমুনের উদ্যোগ দেখে আমিও বাড়িতে কয়েকটি চারা লাগানোর কথা ভাবছি।”স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ফলটি আগে কখনো দেখিনি বা খাইনি। আজ প্রথম দেখলাম এবং খেয়ে বেশ ভালো লেগেছে। আমাদের এলাকার একজন তরুণ এমন নতুন ফলের চাষ করছেন, এটি আনন্দের বিষয়। বেকার তরুণেরা কৃষিকাজে আগ্রহী হলে নিজেরাই স্বাবলম্বী হতে পারবেন। আমি আশা করি, রিমুন ভবিষ্যতে ফল বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন করে এলাকার অন্য তরুণদেরও এ চাষে উৎসাহিত করবেন।”রুহিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুল আলম বলেন, “আনারকলি সাধারণত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে দেখা যায়। আমাদের এলাকায় এ ফলের চাষের বিষয়টি সংবাদকর্মীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি। রুহিয়ার মণ্ডলাদাম এলাকায় রিমুন নামে একজন তাঁর বাড়ির পাশে এ ফলের গাছ লাগিয়েছেন এবং ভালো ফলন পেয়েছেন বলে জেনেছি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাগানটি পরিদর্শন ও চাষাবাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ফলের চাষ সম্প্রসারণে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”রুহিয়ার মাটিতে সেনাসদস্য রিমুনের পরীক্ষামূলক আনারকলি চাষ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাঁর এই উদ্যোগ বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য এলাকাতেও এ ফলের চাষ ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে নতুন ফল চাষে আগ্রহী কৃষক ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য তৈরি হতে পারে কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন সুযোগ।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।