আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতমার বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন ও দুর্বিষহ করে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া কয়েকটি ধারাবাহিক পোস্টে তিনি এমন বিতর্কিত মন্তব্য করেন। কট্টরপন্থী এই মন্ত্রী প্রকাশ্যে গর্ব প্রকাশ করে জানান যে, কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য তিনি প্রার্থনা করছেন বলেও নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওই পোস্টগুলোতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও তীব্র বিষোদ্গার করেছেন ইসরাইলি এই মন্ত্রী। ফিলিস্তিনি প্রশাসনকে নাৎসিদের সাথে তুলনা করে তিনি দাবি করেন যে, তারা শিশুদের হত্যার মতো অপরাধমূলক শিক্ষা দিয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা জরুরি বলে মন্তব্য করেন বেন-গভির। তার এই ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর চলা দমনপীড়নের একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণও তিনি নিজের পোস্টে তুলে ধরেন। ইসরাইলের লাভি কারাগারে বন্দি কিছু ফিলিস্তিনি নিজেদের দৈনন্দিন খাবারের সামান্য অংশ বাঁচিয়ে একটি কেক বানানোর চেষ্টা করেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দিন ধরে পাউরুটির টুকরো ও জ্যাম জমিয়ে তারা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো একটি আনন্দ উৎসব পালনের উদ্দেশ্যে ওই কেকটি তৈরি করেছিলেন বলে জানা গেছে।
কারাগারের অভ্যন্তরীণ বন্দিদশাকে আরও কঠিন করার অংশ হিসেবে সেই খাবারটি বাজেয়াপ্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। শুধু কেক জব্দ করেই ক্ষান্ত হননি কারা কর্মকর্তারা, বরং এই ঘটনার সাথে জড়িত বন্দিদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই বন্দিদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়েছে বলে উল্লাস প্রকাশ করেন ইসরাইলি মন্ত্রী।
