জাতীয় ডেস্ক: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কদমবাড়ি গ্রামে একটি সাধারণ বসতঘরের মেঝেতে দুটি কবর জেগে ওঠার আজব দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্তির আশায় ওই বাড়িতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অসংখ্য মানুষ। সেখানে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা নারী-পুরুষের ভিড় জমে উঠছে এবং তেল পড়া ও পানি পড়ার মাধ্যমে চলছে কথিত চিকিৎসা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ভুঁইফোড় চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সচেতন মহল ও স্থানীয়রা বিষয়টিকে পরিষ্কার প্রতারণা হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে কবর দুটি খুঁড়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কদমবাড়ি গ্রামের ভ্যানচালক ছালাম বেপারীর ছেলে সজীব বেপারী অতীতে একটি হোটেলে শ্রমিকের কাজ করতেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি ধ্যান বা সাধনার মাধ্যমে নানা রোগের নিরাময় করার দাবি প্রচার করে আসছেন। তাঁর এই কথিত চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আসতেন এবং সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে এই ভিড় বহুগুণ বেড়ে যেত। সজীবের পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি তাঁর ঘরের মেঝে ফেটে হঠাৎ করেই একটি কবর দৃশ্যমান হয় এবং তার কিছু সময় পর আরও একটি কবর ভেসে ওঠে। সজীবের দাবি, এই কবর দুটি ইসলামের খ্যাতনামা আধ্যাত্মিক সাধক বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানি ও খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর।
ঘটনার বিষয়ে সজীবের পরিবারের দাবি, তাদের ছেলে দীর্ঘদিন ধরে জটিল রোগে ভুগেও সুস্থ হচ্ছিল না। পরবর্তীতে সাধনা বা ধ্যানের মাধ্যমে সে নিজে আরোগ্য লাভ করে এবং এরপর থেকেই সাধারণ মানুষকে সুস্থ করে তোলার ক্ষমতা অর্জন করেছে বলে পরিবারটি দাবি করছে। বর্তমানে ওই ঘরের মেঝেতে থাকা কবর দুটি নতুন গামছা এবং নানা রঙের ফুলে ঢেকে রাখা হয়েছে। একটি কবর দুই হাত এবং অপরটি তিন হাত লম্বা আকৃতির করে সাজানো হয়েছে এবং চারপাশ বাঁশের খুঁটি ও রশি দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। উৎসুক জনতা ও কথিত চিকিৎসার প্রার্থীরা প্রতিদিন সেখানে ভিড় জমাচ্ছেন এবং অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার দাবি করছেন।
ইসলাম ধর্মে এ ধরনের ঘটনার কোনো বাস্তবিক ভিত্তি বা ঐতিহাসিক নজির নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ধর্মীয় আলেমরা। আগৈলঝাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফজলুল হক জানিয়েছেন, অলৌকিক কবর জেগে ওঠার এই দাবি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং প্রশাসন ঘটনার তদন্ত করলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে। এদিকে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদ খান সংবাদমাধ্যমের সহায়তায় বিষয়টি জানার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিরুপম মজুমদারও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দ্রুত ঘটনাস্থলে তদন্ত পরিচালনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
