রাজনীতি ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণকারী দল বা জোটের সামনে সবচেয়ে বড় ও প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে একটি ভঙ্গুর ও ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিয়ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে দেশের সার্বিক শাসনব্যবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতি উত্তরণ করে একটি কার্যকর ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা নতুন সরকারের জন্য অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও সুদূরপ্রসারী একটি প্রক্রিয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি দূর করা সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং বিচার বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। তবে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত কোনো রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে সঠিক দিকনির্দেশনা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই সংকট কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব কিছু নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, নানাবিধ অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নতুন সরকারকে শুরু থেকেই কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের আকাশছোঁয়া প্রত্যাশা পূরণ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনা বর্তমান প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডতুল্য পরীক্ষা। তা সত্ত্বেও নীতিনির্ধারক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশাবাদী যে, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে যেকোনো জটিল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সরকার তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হবে।
সর্বোপরি, দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অধিকার হরণের ইতিহাস পেছনে ফেলে একটি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার শেষ পর্যন্ত সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জনগণের আস্থা রক্ষা করতে পারবে বলেই প্রত্যাশা করছে রাজনৈতিক সচেতন মহল।
