আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী জাপানের শীর্ষস্থানীয় তামাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জাপান টোব্যাকোর চারটি ইউনিটের সম্পদ অস্থায়ী ব্যবস্থাপনার অধীনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি স্বাক্ষরিত এই ডিক্রির ফলে প্রতিষ্ঠানটির ডনস্কয় তাবাক, পেরেস্লাভল তাবাক, জেটিআই ইয়েলেতস ও ক্রেস নেভা—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডিং জেএসসি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাসেটসের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। ১৯৯৯ সাল থেকে রাশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করে আসা এই বহুজাতিক কোম্পানিটি দেশটির তামাক বাজারে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এবং তাদের মোট বিক্রির প্রায় দশ শতাংশই আসে রুশ বাজার থেকে। তবে এই আকস্মিক পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে টোকিও এবং তারা অবিলম্বে এই ডিক্রি প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা বিশ্বের বহু কোম্পানি রুশ বাজার ছেড়ে চলে গেলেও জাপান টোব্যাকো সেখানে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছিল। উল্লেখ্য, এই কোম্পানির মূল মালিকানার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে জাপান সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ, যেখানে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার। আইনগত বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী জাপানি এই কোম্পানির অন্তত এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার সরকারের হাতে থাকা আবশ্যক। ফলে একটি সরকারি অংশীদারত্বমূলক প্রতিষ্ঠানের ওপর এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি করেছে।
মস্কোর এমন পদক্ষেপের পেছনে মূলত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার একটি কড়া প্রতিক্রিয়া রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে বন্ধুত্বপূর্ণ নয় এমন দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত বা অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় নেওয়ার নীতি বাস্তবায়ন করছে ক্রেমলিন। এর আগে ২০২২ সালের পর থেকে জাপানের পক্ষ থেকেও রাশিয়ার ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধপূর্ণ কিছু দ্বীপের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে পুতিনের সফর এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে এক জাপানি সাংবাদিক আটকের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা ইতিমধ্যেই চরমে পৌঁছেছিল।
রুশ এই ডিক্রির তীব্র প্রতিবাদ জানাতে জাপানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জাপানের চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি কিহারা মিনোরুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এই সিদ্ধান্তকে অবিলম্বে বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং জাপানি নাগরিকদের বৈধ স্বার্থ রক্ষায় মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এছাড়া জাপানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রুশ রাষ্ট্রদূতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদলিপি পৌঁছে দিয়েছেন এবং দ্রুত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে জাপান টোব্যাকো গ্রুপ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা সমস্ত প্রযোজ্য বিধিবিধান ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও বর্তমান পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ করণীয় গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। সম্প্রতি ভালদাই ডিসকাশন ক্লাবের একটি অধিবেশনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জাপানের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, তামাক কোম্পানির সম্পদ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এই নতুন বিরোধ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলেছে। অস্থায়ী এই ব্যবস্থাপনার মেয়াদ কত দিন হবে তা স্পষ্ট না থাকায় জাপানি করপোরেট মহলে উদ্বেগ বেড়েই চলেছে।
