মোঃ সোহাগ খন্দকার
রাণীনগর (রাণীনগর) নওগাঁ প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর রাণীনগরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে কুজাইল বাজারে তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলা আজ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে । শারদীয় দুর্গাপূজার পাঁচ দিন পর অনুষ্ঠিত এই মেলাকে অবহমান বাংলার প্রাচীনতম মেলাগুলোর একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।
কোনো ঢাকঢোল বা প্রচারণা ছাড়াই শত শত দোকানি নানা রকম পণ্য নিয়ে এসে ইতোমধ্যে পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মেলা শুরুর দুই-তিন দিন আগে থেকেই ফার্নিচার, কসমেটিকস, মিষ্টি ও খেলনার দোকানের পাশাপাশি শিশুদের চিত্তবিনোদনের জন্য আকর্ষণীয় নাগরদোলা এসে জায়গা দখল করে নিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা আগাম চলে আসায় কুজাইল বাজার ফুটবল মাঠে দোকানিদের জায়গা বরাদ্দ দিতে জাগরণ সংসদের মেলা পরিচালনা কমিটি হিমশিম খাচ্ছে।
নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত কুজাইল মেলার ইতিহাস এতটাই দীর্ঘ যে বয়ো বৃদ্ধরাও এর সূচনার কথা বলতে পারেন না। তবে কথিত আছে, প্রায় ৩০০ বছর ধরে প্রতিবছর একই তারিখে ছোট যমুনার পূর্ব পাশে কুজাইল নামক স্থানে এই মেলা বসে আসছে।
জানা যায়, রাণীনগর উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক স্থান কাশিমপুর রাজবাড়ী। প্রচলিত আছে, সেখানকার রাজার শাসনামলে আতাইকুলা, হরিশপুর, কৌনজ, মিরাট, কাশিমপুর, বেতগাড়ী, ত্রিমোহনী ও শৈলগাছীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে রাজার সরাসরি নির্দেশে কুজাইল বাজারের গা ঘেঁষে বয়ে যাওয়া ছোট যমুনার পূর্ব পাশে তিন দিনের এই মেলার সূচনা হয়।
আজ সোমবার বিকেল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নৌকায় প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নদীতে আসবে। ঢাকঢোল পিটিয়ে নেচে-গেয়ে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে পূজা আয়োজক কমিটির সদস্যরা প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করবে।
আশপাশের গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় মেয়ে-জামাই ও আত্মীয়স্বজনের আগমনে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। মেলার দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ আগামীকাল মঙ্গলবার বসবে বৌ মেলা। এখানে একটি প্রবাদ আছে, লক্ষ্মী পূজার মেলায় মেয়ে-জামাইকে না আনলে আত্মীয়তায় কিছুটা ঘাটতি দেখা দেয়। অতিথি আপ্যায়নে প্রতিটি বাড়িতে তিল ও নারিকেলের নাড়ুর প্রচলন রয়েছে, সঙ্গে থাকে মিষ্টি ও মচমচে জিলাপি।
কুজাইল জাগরণ সংসদের সভাপতি ও মেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাইদুল ইসলাম বলেন, “মেলার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি রাণীনগর থানা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। আগত ব্যবসায়ীদের জায়গা বরাদ্দের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।”
কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মকলেছুর রহমান বাবু বলেন, “মেলা পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি করা হয়েছে, যার সার্বিক তত্ত্বাবধানে আমি থাকব।” তিনি মেলার পরিবেশ ভালো রাখতে সব দোকানি ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।
রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ জাকারিয়া মন্ডল বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে লক্ষ্মী পূজার প্রতিমা ছোট যমুনায় বিসর্জন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত নদীতে নৌকায় পুলিশ টহল থাকবে। মেলার ভেতরেও পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্বে থাকবে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে মেলায় নাচ-গান, জুয়ার আসর ও লটারি বসতে দেওয়া হবে না।
