অর্থনীতি ডেস্ক: চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ বে টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি বা পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল। এই মেগা প্রকল্পে প্রায় ৮০ কোটি থেকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ এবং টার্মিনালটি পরিচালনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের অনাবাসী হাইকমিশনার ডেরেক লো এই বিনিয়োগ প্রস্তাবের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। বৈঠক চলাকালে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সাইবার নিরাপত্তা এবং পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের বিভিন্ন দিক গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন যে বে টার্মিনাল প্রকল্পটি সফলভাবে চালু হলে দেশের সামগ্রিক শিপিং খরচ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমে আসবে। একই সঙ্গে এই আধুনিক টার্মিনাল চালুর ফলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তথা তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণেও এর একটি সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। হাইকমিশনারের এই প্রস্তাব ও আশাবাদের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলতে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের বিষয়টি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করে তা বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল জালিয়াতি কিংবা অনলাইন স্ক্যাম কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাইবার অপরাধ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সিঙ্গাপুরের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জানান যে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি নতুন পুলিশ সাইবার ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের উন্নত অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ আগ্রহী। বৈঠকে উপস্থিত সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি দল এ বিষয়ে পুলিশ বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং যৌথ সাইবার তদন্তে সার্বিক সহায়তার বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে সিঙ্গাপুর কো-অপারেশন প্রোগ্রামের আওতায় বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রস্তাব দেন হাইকমিশনার। তিনি বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সিঙ্গাপুরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরে পাঠানোর প্রস্তাব করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং হাইকমিশনার তাকে সুবিধাজনক সময়ে সিঙ্গাপুর সফরের আমন্ত্রণ জানান। ওই সময় সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, পিএসএ ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক প্রধান, এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুরের প্রতিনিধি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব আগামী দিনে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বৈঠকটি শেষ করে।
