জাতীয় ডেস্ক: পুলিশ বাহিনী বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে একশ্রেণির মানুষ পুলিশকে স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। অন্যদিকে, নমনীয় অবস্থান নেওয়া হলে সাধারণ মানুষ বাহিনীটিকে দুর্বল মনে করে, যা সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। সম্প্রতি খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে এক সুধী সমাবেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।
পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা বিগত সতেরো বছরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানান যে, এই দীর্ঘ সময়ে সাধারণ জনগণ ও পুলিশের মধ্যকার আস্থার সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। পুলিশ বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সুপরিকল্পিতভাবে সমাজে মাদক কারবার ও অপরাধ প্রবণতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই গভীর সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে নানামুখী সংস্কারমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও যুগোপযোগী ও কার্যকর করে তুলতে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে নতুন আইনি কাঠামোর কাজ চলছে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পুলিশের একটি বিশেষ শাখা হিসেবে দাপ্তরিকভাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে অপরাধ দমন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বর্তমানে দেশজুড়ে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি দমন, চাঁদাবাজি রোধ এবং মাদক নির্মূলে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান আইজিপি। এছাড়া চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের লিখিত অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের হাত আরও দীর্ঘ করতেই এই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
