ধর্ম ডেস্ক: আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সম্প্রতি টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দেশের শীর্ষ আলেমদের মতামত তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, বিতর্কিত সাদপন্থিরা ভবিষ্যতে আর কখনো টঙ্গীর ঐতিহাসিক ইজতেমা ময়দান ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না। ইজতেমা ময়দানের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ইবাদতের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে এই কঠোর অবস্থান অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী সরকারের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের পরও সাদপন্থিদের ইজতেমা ময়দানে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কঠোরভাবে বলবৎ রাখতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মুসল্লিদের নিরাপত্তা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থেই সরকারের পূর্ববর্তী এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরি। ইজতেমা ময়দানকে কেন্দ্র করে অতীতে যেসব অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, তার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে সরকারের নীতিগত এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।
গত কয়েক বছরে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত বিভিন্ন সংঘাত ও প্রাণহানির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপের জোর দাবি জানান। বিশেষ করে ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ইজতেমা ময়দানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআইয়ের অধীনে তদন্তাধীন এই হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অতিসত্বর আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিলের দাবি জানান তিনি। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রশ্রয় পাবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শীর্ষস্থানীয় আলেম ও মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলনটি এক প্রকার জাতীয় ইসলামি ঐক্যের রূপ নেয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, মাওলানা শাহ সাজিদুর রহমান এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ পিরসাহেব মধুপুরসহ দেশের বরেণ্য উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন। তাদের সম্মিলিত কণ্ঠেও ইজতেমা ময়দানের পবিত্রতা রক্ষা এবং সরকারের পূর্বনির্ধারিত নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জোরালো দাবি উচ্চারিত হয়। পরিশেষে, দেশের সার্বিক শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে আসন্ন ইভেন্টটি সফল করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
