সূত্র: Hill Voice
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকা থেকে চুক্তি বিরোধী ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের একদল সন্ত্রাসী কর্তৃক উজ্জ্বল চৌধুরী (৩৩) নামের এক মারমা স্কুল শিক্ষককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী যুবক গুরুতর অবস্থায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপহৃত স্কুল শিক্ষকের নাম উজ্জ্বল চৌধুরী (৩৩)। গ্রাম: গোলাবাড়ি, খাগড়াছড়ি সদর। তিনি গুইমারা কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে উজ্জ্বল চৌধুরী তাঁর এক বান্ধবীসহ ধর্মপুর এলাকার মেঘনেট রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা উজ্জ্বলের কাছে সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চান এবং তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তল্লাশি চালান।
এর কিছুক্ষণের পর মুখে মাক্স লাগিয়ে ইউপিডিএফের একটি দল তাঁকে অস্ত্রের মুখে চোখ বেঁধে অপহরণ করে একটি অজ্ঞাতনামা জুমঘরে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাত পান। দীর্ঘ এক রাত আটকে রাখার পর তাঁর পরেরদিন অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তাঁকে ধর্মপুর এলাকায় ছেড়ে দেয় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা।
ছেড়ে দেওয়ার পর ভুক্তভোগী উজ্জ্বল চৌধুরী প্রথমে অটোরিকশাযোগে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং পরবর্তীতে বাড়ি চলে যান। তবে মাথায় আঘাতজনিত কারণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে একই দিন ২৭ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে তিনি পুনরায় খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে , অপহৃত স্কুল শিক্ষক তাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন বলেই তাকে অপহরণ ও মারধর করা হয়।
