রাজনীতি ডেস্ক: রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে দিনব্যাপী একটি রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশ নেন, যা অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। দুটি পর্বে বিভক্ত এই আয়োজনের প্রথম অংশে নতুন সেশনের জন্য রুকন সদস্যরা ভোট প্রদান করেন এবং দ্বিতীয় অংশে মূল সাংগঠনিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে, একজন মুমিনের চূড়ান্ত ও প্রধান লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাত লাভ করা। তিনি বিগত বছরগুলোতে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে দিনমজুর ও মেহনতি মানুষের অবদানের কথা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। বর্তমানের মুক্ত ও স্বাধীন রাজনৈতিক পরিবেশে দলীয় দায়িত্বশীলদের আরও অধিক দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি, নবী ইবরাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর ত্যাগের অনন্য আদর্শ অনুসরণ করে জীবনের প্রতি পদক্ষেপে আল্লাহর সাহায্য কামনা করার ওপর জোর দেন জামায়াত আমীর।
নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও অতীত দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে জনগণ ভোট দিলেও তা যথাযথভাবে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি যা ছিল নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা। ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুলত্রুটির যেন কোনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য প্রার্থীদের বিজয়ী করতে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো ধরনের দুর্বৃত্তপনার বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেখানেই সামর্থ্য থাকবে, সেখানেই তারা যথোপযুক্ত প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রুকনিয়াত কেবল কোনো সাধারণ পদ-পদবি বা ক্ষমতার বিষয় নয়, এটি মূলত জীবন ও নীতি-নৈতিকতার এক অনন্য মানদণ্ড। সংগঠনের রুকনদের নৈতিক মান ও আধ্যাত্মিক শক্তি যত বেশি শক্তিশালী হবে, সামগ্রিকভাবে সংগঠন ততই মজবুত ও সুসংহত হবে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে রফিকুল ইসলাম খান, মোবারক হোসেন ও নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে নগরবাসীর সুবিধার্থে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপের শুভ উদ্বোধন করা হয়। ‘নাগরিক সেবা’ নামের এই অ্যাপটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পঞ্চাশটিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানজুড়ে ইসলামী অনুশাসন ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয় এবং পরিশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলনটির সমাপ্তি ঘটে।
