কাওছার আহমেদ,
ব্যুরো প্রধান ময়মনসিংহ।
যিশুখ্রিষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল জেরুজালেমে- এমনটাই বিশ্বাস করা হয় খ্রিষ্টধর্মে। কিন্তু জাপানের একটি ছোট গ্রামে প্রচলিত রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক গল্প। স্থানীয় কিংবদন্তি অনুযায়ী, যিশুখ্রিষ্ট আদৌ ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মারা যাননি। বরং তাঁর বদলে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন ছোট ভাই। আর যিশু পালিয়ে জাপানে এসে সংসার পেতেছিলেন!
জাপানের প্রধান দ্বীপের উত্তরাঞ্চলে আওমোরি প্রিফেকচারের শিঙ্গো গ্রামে প্রচলিত রয়েছে এই অদ্ভুত কিংবদন্তি। ধানখেত ও দেবদারুগাছে ঘেরা শান্ত গ্রামটি পরিচিত হয়ে উঠেছে যিশুখ্রিষ্টের কথিত সমাধির জন্য।
স্থানীয় গল্প অনুযায়ী, যিশুর ছোট ভাই ইসুকিরি তাঁর পরিবর্তে ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন। অন্যদিকে যিশু জেরুজালেম থেকে পালিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল অতিক্রম করে সমুদ্রপথে জাপানে পৌঁছান।
পরে শিঙ্গো গ্রামে বসবাস শুরু করেন তিনি। স্থানীয় এক নারীকে বিয়ে করেন এবং ধানচাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিংবদন্তি অনুযায়ী, ১০৬ বছর বয়স পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন যিশু।
গ্রামের পেছনে ছোট একটি পাহাড়ের ওপর রয়েছে তাঁর কথিত সমাধি। পাশেই আরেকটি সমাধি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে ইসুকিরির কান ও একগুচ্ছ চুল, যা যিশু স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে জাপানে নিয়ে এসেছিলেন।
স্থানটি ‘গ্রেভ অব ক্রাইস্ট’ নামে পরিচিত। সেখানে রয়েছে কাঠের ক্রুশ ও পরিচিতিমূলক ফলক। জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা জায়গাটি দেখতে আসেন। কেউ মুদ্রা রেখে যান, কেউ ছবি তোলেন।
১৯৩০-এর দশকে কিয়োমারো তাকেনৌচি নামের এক ব্যক্তি প্রাচীন নথি আবিষ্কারের দাবি করে কিংবদন্তিটি লিখিতভাবে তুলে ধরেন। তবে কথিত নথিগুলোর সত্যতা কখনো প্রমাণিত হয়নি।
ঐতিহাসিক প্রমাণ না থাকলেও গল্পটি ধীরে ধীরে শিঙ্গো গ্রামের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
গ্রামটি জাপানের প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে পড়ে না। তবু যিশুর কথিত সমাধি দেখতে আগ্রহী মানুষ সেখানে যান।
সমাধি হিসেবে চিহ্নিত স্থানটি বাস্তবে রয়েছে। রয়েছে তার পরিচিতিমূলক ফলকও। তবে সেখানে সত্যিই যিশুখ্রিষ্টকে সমাহিত করা হয়েছিল, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই।
