রাজনীতি ডেস্ক: গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ইতিমধ্যে কয়েক দফায় কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং সেই লক্ষ্যেই কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরে আসার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের নজরেও বিষয়টি এসেছে। তবে পলাতক ও ফ্যাসিবাদী শক্তির এমন কোনো অপতৎপরতা বা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের প্রচেষ্টা বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত কঠোর হাতে প্রতিহত করতে প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ সুগম হয়েছে এবং এটি কার্যকর করতে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা তাদের দীর্ঘ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল। বর্তমান সরকার আইনসভায় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা পুনরায় সংবিধানে যুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।
