অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের প্রধান পাইকারি বাজারগুলোতে চালের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রতি ৫০ কেজির চালের বস্তায় প্রায় ২৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন যে, এই বর্ধিত দাম এখনো সাধারণ ভোক্তাদের পর্যায়ে পুরোপুরি প্রভাব ফেলেনি।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের চালের পাইকারি দর সামান্য হলেও বেশি রাখছেন মিল মালিক ও বড় ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ করে চালের দাম বাড়ার সুনির্দিষ্ট কোনো বড় কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং ধানের মৌসুমের শেষের দিকে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়ার পরোক্ষ প্রভাব এর পেছনে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাইকারিতে দাম বাড়লেও খুচরা বাজারে আগের দরেই চাল বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, চালের বাজারের এই চিত্র দেখা গেলেও শীতকালীন সবজির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি সরবরাহ হওয়ায় দাম বেশ খানিকটা কমেছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মূলাসহ বিভিন্ন রকমের তাজা সবজি কম দামে কিনতে পারছেন ক্রেতারা। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সামগ্রিক খরচে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সাধারণ মানুষের।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চালের পাইকারি বাজার চড়া থাকার বিষয়টি দ্রুত নজরদারিতে না আনলে এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত খুচরা বাজারেও পড়তে পারে। তাই সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার্থে বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে শীতকালীন সবজির এই কম দাম অব্যাহত থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
