কাওছার আহমেদ
ব্যুরো প্রধান ময়মনসিংহ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নতুন করে দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে কুমিল্লা নগরের শাসনগাছা এলাকায় এক বিশেষে অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মুফতি মিজানুর রহমান (৪৭) কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার উত্তর গাজীপুরের আসরা মসজিদবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার পিতার নাম মুহা. ইসমাঈল মজুমদার এবং মাতার নাম মোছা. হাসিনা মাহমুদা নার্গিস। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার বর্তমান ঠিকানা হিসেবে ঢাকার দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ৩১২ নম্বর বাড়ি, ডাকঘর ফরিদাবাদ-১২০৪ উল্লেখ রয়েছে। সে মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে যোগদানের প্রায় তিন মাসের মাথায় স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। গত ৭ অক্টোবর রাতে স্ত্রী-সন্তানসহ তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামে পুলিশ ট্রাক থামিয়ে ইয়াবা লুট: এসআই ও দুই কনস্টেবল প্রত্যাহার
পুলিশ জানায়, জামালপুরের পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় মেলান্দহ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানে অংশ নেন মেলান্দহ থানার এসআই ত্রীদীপ কুমার বীর ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই হুমায়ুন কবির।
এসআই হুমায়ুন কবির বলেন, মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে একেকটি মোবাইল সিম ব্যবহার করতেন। পরে কুমিল্লায় তার অবস্থান শনাক্ত করে কৌশলে গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রথমে তাকে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরে আরও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেন জানান, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে মেলান্দহ থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল।
ভুক্তভোগীদের পক্ষে মালঞ্চ গ্রামের আবদুস সালাম মাস্টারের ছেলে ইসমাইল হোসেন রাজা (৫০) বাদী হয়ে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমান জুয়ার টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। দেশের অন্য স্থানেও একই কায়দায় অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
